মৃত্যুর আগে চিৎকার করে যা বলেছিলেন এমপি লিটন

নিউজ ডেস্ক: দুর্বৃত্তদের গুলিত নিহত এমপি লিটনের বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। কারা হত্যা করলো তা নিয়ে চলছে তদন্ত। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজনের বক্তব্যে সন্দেহে শুধু জামায়াত নয়, আন্য কোন পক্ষ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মৃত্যুর অগে কিছু বলেও যেতে পারেননি এমপি লিটন। তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চিৎকার কয়ে কয়েকটি শব্দ বলেছিলেন লিটন।
সাংসদের স্ত্রী খুরশীদ জাহান স্মৃতি বলেন, সারা দিন একসঙ্গেই ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে মোবাইলে চার্জ দিতে পাশের ঘরে যাবেন, এ সময়ই তাঁর বড় ভাই বেদারুল আসেন। ভাইকে নিয়েই তিনি পাশের ঘরে যাওয়ার পরপরই গুলির শব্দ শোনেন। দৌড়ে বের হয়ে উঠানে গিয়ে দেখেন সাংসদ বুকে হাত দিয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘ওরা আমাকে গুলি করছে, ধর ধর।’ কথা শুনে তিনি ও তাঁর ভাই দৌড়ে বাইরের দিকে আসেন। এসে দেখেন গাবগাছের নিচে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন উঠছে। খুব ভালো করে খেয়াল করতে পারেননি। এ সময় একজন তাঁদের দিকে গুলিও চালায়, উল্টে পড়েন স্মৃতি। পরে আহত সাংসদকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাগুলো ঘটে যায়।
জানা গেছে, ঘটনার সময় বাসার সাতজন গৃহকর্মী কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পুরোনো লোক সৌমেন্দ্রকে মুরগি কিনতে পাঠান সাংসদের স্ত্রী খুরশীদ জাহান স্মৃতি। সাজেদুল নামে আরেকজন ভেতরে গিয়েছিলেন সাংসদের জন্য পান ধুতে। ইমাম হোসেন গরু গোয়ালে ঢোকাচ্ছিলেন। আর ইউসুফ আলী মুরগি ঘরে ঢোকাতে গিয়েছিলেন। তিন নারী গৃহকর্মী বিলকিস, রোকসানা ও জাবেদা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন।
গাড়িচালক ফোরকান আকন বলেন, সন্ধ্যায় যখন তিনি গাড়ি মুছছিলেন তখন একটি মোটরসাইকেলে তিনজন লোক আসে। দুজন ড্রয়িংরুমে ঢুকে আর একজন দাঁড়িয়ে বারবারই গাড়িটি এবং তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন। এরপর ফোরকান বাসার ভেতরে ঢোকার মিনিট খানেকের মধ্যেই গুলির শব্দ পান। তিনি গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করারও চেষ্টা করেন। কিন্তু বাসা থেকে ফোন পেয়ে সাংসদকে হাসপাতালে নিতে আবারও ফিরে আসেন।

Loading...

Random Posts

Leave a Reply