যে ছবি নিয়ে তোলপাড়

যশোর কোতোয়ালি থানায় এক যুবককে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ছবি নিয়ে তোলপাড় চলছে। এ ঘটনা তদন্তে শুক্রবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যদিও যুবকের পরিবার থেকে বলা হচ্ছে মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এলাকার লোকজন জানান, হয়রানির ভয়ে যুবকের পরিবার এসব কথা বলছে।

যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে আবু সাঈদকে বুধবার রাতে আটক করেন কোতোয়ালি থানার এসআই নাজমুল ও এএসআই হাদিবুর রহমান। এরপর সঈদের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় সাঈদকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় দুই টেবিলের মাঝে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ওই রাতেই ছাড়া পায় সাঈদ। পুলিশের নির্যাতনের এই ছবি বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকের হাতে এসে পৌঁছায়। ছবিটি পাওয়ার পর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর ওই ছবি তাদের বক্তব্যসহ প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে পুলিশ।

Loading...

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, থানায় মারপিট ও টাকা আদায়ের অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনা সম্পর্কে নির্যাতনের শিকার যুবকের মা রোমেছা বেগম, বাবা নুুরুল ইসলাম ও ভাই আশিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ আবু সাঈদকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। টাকা-পয়সা লেনদেন কিংবা মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমনিতেই পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে।’

ছাড়া পাওয়ার পর পলাতক ছিল আবু সাঈদ। শুক্রবার সকালে গিয়ে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বেলা ১১টার দিকে বাড়ির সামনে দেখা হয় তার সঙ্গে। সাঈদ জানান, ‘মাদক ব্যবসার অভিযোগে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে থানায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে রেখেছিল। কোনো মারপিট করেনি। পরিবারের লোকজন তদবির করে ছাড়িয়ে এনেছে। টাকা-পয়সা লেনদেন হয়েছে কিনা বলতে পারব না।’

তালবাড়িয়া গ্রামের একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, পুলিশ প্রায়ই লোকজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায় করে। সাঈদকেও তারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল। সাঈদ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। পরিবারের লোকজন টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে এনেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জনপ্রতিনিধি জানান, পুলিশ টাকার বিনিময়ে সাঈদকে ছেড়ে দিয়েছে। মারপিটের ঘটনাও সঠিক। তবে হয়রানির ভয়ে পরিবারের সদস্যরা মারপিট ও টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করছেন।

যশোরে পুলিশের বিরুদ্ধে আটকের পর নির্যাতন করে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যদিও হয়রানির ভয়ে তা কেউ প্রকাশ করার সাহস পান না। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর চৌগাছা বাজারে এক ব্যবসায়ীকে তার দোকানে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে পুলিশের দুই সদস্য। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়। এরপর ২৫ ডিসেম্বর কেশবপুরে ব্যবসায়ীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে জনরোষে পড়ে কয়েক পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় চারজনকে ক্লোজ করা হয়

Mybd24.com © 2017 Mybd24.com