ক্রিকেট ইতিহাসের কলঙ্কজনক দিন!

ম্যাচটা স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারত অনেক দিক দিয়েই। টানা ১৬ ম্যাচে জয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ছুঁয়েছিল নিজেদেরই গড়া রেকর্ড। শচীন টেন্ডুলকার খেলেছিলেন অসাধারণ এক শতরানের ইনিংস। কিন্তু ২০০৪ সালের সিডনি টেস্ট ম্লান হয়ে গিয়েছিল বিতর্কিত আম্পায়ারিং আর খেলোয়াড়দের কলঙ্কজনক সব আচরণের জন্য। ক্রিকেটবিশ্বে এখনো যেটা কুখ্যাত হয়ে আছে মাঙ্কিগেট কেলেঙ্কারি হিসেবে।

২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে সিডনি টেস্টে ব্যাটে-বলে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে নজর কেড়েছিলেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছিল তাঁর হাতে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান এই অলরাউন্ডার আলোচনায় এসেছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। তাঁকে বানর বলে গালি দিয়েছিলেন ভারতের স্পিনার হরভজন সিং। ম্যাচ রেফারি মাইক প্রক্টের হরভজনকে নিষিদ্ধ করেছিলেন তিন ম্যাচের জন্য। পরে ভারতীয় খেলোয়াড়দের সফর বাতিলের হুমকির মুখে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যান ‘ভাজ্জি’।

Loading...

২০০৪ সালের সিডনি টেস্টে বিতর্ক ছড়িয়েছিলেন সে সময়ের অন্যতম সেরা আম্পায়ার স্টিভ বাকনারও। প্রথম ইনিংসে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের একটি ক্যাচের আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই আম্পায়ার। মাত্র ৩০ রানে জীবন পেয়ে শেষপর্যন্ত সাইমন্ডস খেলেছিলেন ১৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস। বিতর্কিত আম্পায়ারিংয়ের সুযোগ নিয়েছিলেন মাইকেল ক্লার্কও। দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিলেও আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় জীবন পেয়েছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। পরে তিনিই আবার স্লিপে দাঁড়িয়ে ধরেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলীর বিতর্কিত এক ক্যাচ।

এই সিরিজ শুরুর আগে দুই দলের অধিনায়ক একমত হয়েছিলেন যে, কোনো ক্যাচ নিয়ে সংশয় তৈরি হলে ফিল্ডারের কথাই মেনে নেওয়া হবে। সেটা মাথায় রেখে আম্পায়ার মার্ক বেনসনও মেনে নিয়েছিলেন গাঙ্গুলীর আউটটা। যদিও পরে দেখা যায় যে সেটি আউট ছিল না।

ভারত শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা হেরে গিয়েছিল ১২২ রানে। সিরিজের তৃতীয় টেস্টে আর আম্পায়ারিং করতে পারেননি স্টিভ বাকনার। হরভজন-সাইমন্ডসের সেই উত্তপ্ত কথোপকথন নিয়েও সে সময় বেশ সরগরম হয়েছিল ক্রিকেটবিশ্ব।

Mybd24.com © 2017 Mybd24.com